আইনস্টাইনের বিয়ে ও প্রেমের পাঁচ নারী


শিল্পিত পারু ।।

আলবার্ট আইনস্টাইন ছিলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীতিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে অনন্য এক জিনিয়াস ব্যক্তি। পৃথিবীর রহস্য উন্মোচনে তার অবদান মানুষ আজীবন মনে রাখবে এবং  তার  ফলভোগ করবে । মাত্র ২৬ বছর বয়সে তিনি এক বছরে বিজ্ঞানের ৫টি তত্ত্ব প্রদান করে সারা বিশ্বে শোরগোল বাঁধিয়ে দেন।এজন্য ১৯০৫ সালকে বলা হয় 'মিরাকেল ইয়ার' । কারো কারো মতে আইনস্টানের জন্মে পৃথিবী একশো বছর এগিয়ে গেছে। বলা হয় নিউটনের বিজ্ঞান যেখানে শেষ, আইনস্টানের বিজ্ঞান সেখানে শুরু।


পৃথিবীর সেই শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীও প্রেমে পড়েছিলেন, তবে সেটা শুধু একজন নয়, তিনি প্রেমে পড়েছিলেন একাধিক নারীর।  চলুন জেনে বিজ্ঞানী আলবার্টের সেই প্রেমিকা ও বউদের খবর ।



মেলিভা মেরিক ও আইনস্টাইন
































আলবার্ট আইনস্টাইনের জন্ম হয়েছিল ১৮৭৯ সালের জার্মানীর উলমা শহরে। তার জীবনে মোট পাঁচজন নারীর সাথে তার সম্পর্কের খবর পাওয়া যায়। যাদের দুজনকে তিনি বিয়ে করেছিলেন। তবে তার প্রথম প্রেম অসমাপ্তই থেকে যায় । তার তিনটি সন্তানও আছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো বিয়ে করা দুই নারী ও তার প্রথম প্রেমিকা ছিলেন বয়সে তার চেয়ে বড়। আর জীবনের শেষ সময়টুকু যার সাথে কাটিয়েছেন সেই নারী ছিল তার চেয়ে ২২ বছরের ছোট।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে আইনস্টাইন প্রথম প্রেমে পড়েন। তার প্রথম প্রেমিকার নাম মারি ভিন্টেলার। তখন আলবার্ট পড়াশুনার জন্য এই ভিন্টেলার পরিবার সাথেই থাকতেন। জুরিখ থেকে ২৫ মাইল দুরে এক  গ্রামে থাকতো তারা । গ্রামের নাম আরাউ। পরিবারের বড় মেয়ে মারি ভিন্টেলারের সাথে হয় তার প্রথম প্রেম হয়। মারি ছিলেন আইনস্টাইনের চাইতে দুবছরে বড়তিনি তখন শিক্ষকতার প্রশিক্ষণ নিয়ে চাকরির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তার এই প্রেম কেন ভেঙ্গে গিয়েছিল তার সঠিক কারন জানা যায়নি ।

প্রথম প্রেম ভেঙ্গে গেলে আলবার্ট মিলেভা মারিকের প্রেমে পড়েন সার্ভিয়ার মেয়ে মিলেভা ছিলেন জুরিখ পলিটেকনিকেলের ছাত্রী এবং অংক ও পদার্থ বিদায় দারুণ পারদর্শীতার বিজ্ঞানের প্রতি প্যাশন দেখেই আইনস্টাইন প্রেমে পড়েছিলেন তার চেয়ে ৩ বছরের বড় মিলেভা মারিকের। দেখতে প্রথম প্রেমিকার মত সুন্দরীও ছিলেন না তিনি,পরিবারও খুব বেশি পছন্দ করতেন না মারিচকে তবু আইনস্টাইন তাকে বিয়ে করেন। ১৯০৩ সালে তাদের বিয়ে হয়। কেউ কেউ বলেন মারিক আইনস্টাইনের মতই মেধাবী ছিলেন এবং তাদের মেধার জন্যএকে অপরকে সম্মান করতেন ।

বিয়ের আগের তাদের একটি মেয়ে সন্তান হয়। পরে আরো দুটো ছেলেএই তিন সন্তানই লিজেরল হ্যানস ও এডুয়ার্ড। তবে মেয়েটির খবর পরবর্তীতে আর পাওয়া যায় না ।

আনস্টাইন অন্য মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়ানোয় স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের অবনতি ঘটে  এবং শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদে রুপ নেয়। আবার কারো কারো মতে মিলেভা অংকের অধ্যাপক ভ্লাদিমির ভারিচাক এর সাথে সম্পর্কে জড়ান। তাদের সম্পর্কের অবনতি এখান থেকে শুরু।

এক বন্ধুর মধ্যস্ততায় তাদের এই সংকট কেটে গেলেও, সংসার করার জন্য মেলিভাকে লিখিত আকারে কিছু কঠিন শর্ত জুড়ে দেন আইনস্টা্ইন। সেই শর্ত মেনে মেলিভা সংসারে ফিরে আসলেও বেশিদিন তাদের সম্পর্ক স্থায়ী হয়না। শেষ পর্যন্ত স্বামী স্ত্রীর বিরোধ আদালতে গড়ায় ।

পরবর্তীতে নোবেল থেকে পাওয়া অর্থ স্ত্রী ও সন্তানের নামের দেবার শর্তে আদালতেই তাদের বিচ্ছেদ হয়। ১৯১৯ সালে ২ জুন তালাক হয়ে যায় আইনেস্টাইন ও মেলিভার। আর সেসময় নোবেল থেকে পাওয়া অর্থের পরিমান ছিল তিন কোটি টাকা যা তার স্ত্রী ও সন্তানের জন্য তিনি পুরোটাই দিয়ে দেন ।

এরপর তার দুসর্ম্পকের বড় খালাতো বোন এলসার সাথে সম্পর্ক হয় তার তিনি ছিলেন তিন বছরের বড়। স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাবার পর এলসারও দুই মেয়ে নিয়ে একা থাকেন। মিলেভার সাথে বিচ্ছেদের পর এলসাকে বিয়ে করেন আইনস্টাইন। ১৯৩৬ সালে এলসার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার সাথেই সংসার করেছেন আইনস্টাইন।

কারো কারো মতে আইনস্টাইন শুধু এলসার সাথে নয় তার বড় মেয়ে আইলস এর সাথেও সম্পর্কে ও জড়িয়েছিলেন। সে ছিল আইনস্টানের সেক্রেটারি। মায়ের বাধায় শেষে আইলস আরেক প্রেমিককে বিয়ে করলে শেষ হয় এই অসম প্রেমের ।
দ্বিতীয় স্ত্রী এলসার সাথে      Source: temaOnline.bg


আইনস্টানের শেষ জীবন কাটে জোহানা ফ্যানটোভার সাথে। তার সঙ্গে আইনস্টাইনের সর্বপ্রথম পরিচয় হয় ১৯২৯ সালে বার্লিনে। আইনস্টাইনের চেয়ে ২২ বছরের ছোট হলেও বয়সের দূরত্ব তাদের ঘনিষ্টতাকে আড়াল করতে পারেনি। ১৯৪০ সালে তাদের প্রণয় হয়। আইনস্টানের মৃত্যু পর্যন্ত জোহানাই ছিলেন তার সঙ্গী ।
১৯৫৫ সালে ৭৬ বছর বয়সে পৃথিবী ছেড়ে চলে যান মহান এই বিজ্ঞানী ।


শিল্পিত পারু
কবি ও লেখক